নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত বসবাসে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য আবহে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিজস্ব হলেও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার সংস্কৃতি বাংলার সমাজে দীর্ঘদিনের। ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিন—বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই বহুল প্রচলিত ধারণাটিও সেই সামাজিক সম্প্রীতির প্রতিফলন।
শুধু ধর্মীয় বৈচিত্র্য নয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বিজু, সাংগ্রাই, ওয়ানগালা உள்ளிட்ட বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।
জাতীয় সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই ঐক্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষ ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। সহযোগিতা ও মানবিকতার এই চর্চা প্রমাণ করে—সংকটের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাদের মানবিকতা।
এই সম্প্রীতির ঐতিহাসিক ভিত্তিও গভীর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছে। অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর থেকেই পারস্পরিক সহাবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।