সরকারকে চোখে চোখে রাখা এবং ভুল করলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরতে হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক বাস্তবতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বড় বাধা।’
শুক্রবার (৭ আগস্ট) টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।’
ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, যেখানে আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ যেন ধ্বংস হয়ে গেছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সংবাদকর্মী নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের পথে হাঁটেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশের সাহস দেখাতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যমে কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সাংবাদিককে কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়, ন্যূনতম বেতন বা চাকরির নিরাপত্তাও অনেক ক্ষেত্রে নেই। অথচ এসব বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ খুব কমই দেখা যায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিক ও মালিকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন, পরে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন সময়ে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।