ঢাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বন্ধুত্ব করে পরে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন সহিংসতার মাধ্যমে অপরাধ চালানো এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) মূলত মিরপুর এলাকার নারীদের টার্গেট করে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করতেন।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এসব তথ্য জানান।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রাশেদুল ফেসবুকে ভুয়া নারী পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুলের আশপাশে নিয়ে যেতেন। সেখানে তার দুটি আলাদা বাসা ছিল—দিন ও রাত অনুযায়ী ব্যবহার করতেন। ভিকটিমদের ওই বাসায় নিয়ে যৌন নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হতো এবং পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন।
প্রাথমিকভাবে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৫ জন ভিকটিমের ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল একই কৌশলে তার বর্তমান স্ত্রীকেও ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন। উদ্ধারকৃত ডিভাইস পরীক্ষা করে একাধিক ভিকটিমের সঙ্গে যৌন সহিংসতার প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশের ধারণা, ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনার শিকার কেউ থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযুক্তের স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।