আর মাত্র কয়েক দিন পর, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর সুইডেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। জাতীয় সংসদ রিক্সদগের পাশাপাশি একই দিনে হবে আঞ্চলিক (রিজিওন) ও পৌর (কমিউন) পরিষদের নির্বাচন। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বেশ কয়েকজন প্রার্থী। কেউ লড়ছেন জাতীয় সংসদে, একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতেও প্রার্থী হয়েছেন। কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিজিওন কাউন্সিলে, আবার কেউ পৌর পরিষদে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতো তাঁদের নির্বাচনী অগ্রাধিকারও ভিন্ন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসননীতি ও স্থানীয় উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ইস্যু উঠে এসেছে তাঁদের প্রচারণায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এসব প্রার্থীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি অভিবাসী ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আগ্রহ। ফলে এবারের নির্বাচনে তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ যেমন আলোচনায়, তেমনি ভোটারদের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় সংসদ ও পৌর পরিষদের প্রার্থী
লিও আহমেদ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন লিও আহমেদ। তিনি লেফট পার্টি বা ভ্যান্সটারপারিয়েতের হয়ে জাতীয় সংসদ (রিক্সদগ) নির্বাচনে ৩৪ নম্বর প্রার্থী। একই দলের হয়ে সিগতুনা পৌর (কমিউন) পরিষদে তিনি ১ নম্বর প্রার্থী।
প্রায় দুই দশক ধরে সুইডেনের অভিবাসননীতি ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় লিও আহমেদ। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিবাসননীতির কারণে পরিবার, শিশু ও তরুণদের ওপর প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে সুইডেনে বেড়ে ওঠা কিংবা দীর্ঘদিন দেশটির সমাজের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর মতে, অভিবাসননীতি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে পরিবার ও শিশুদের ভবিষ্যৎ সরাসরি জড়িত।
নির্বাচনের মাধ্যমে কেমন সমাজ গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে প্রচারণায় তুলে ধরছেন তিনি। একই সঙ্গে যাচাই করা তথ্য ও বিবেকের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রার্থী।
ফারজানা খান
ফারজানা খান স্টকহোমের সালেম থেকে জাতীয় সংসদ (রিক্সদগ) ও পৌর (কমিউন) পরিষদ— দুই নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সালেমকে নিজের ঘর এবং রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই এলাকার মানুষের জন্য আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কথা বলছেন।
২৫ বছরের বেশি সময় সামাজিক সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে ফারজানা খানের। তাঁর প্রচারণায় নিরাপত্তা, সামাজিক একীভূতকরণ, কর্মসংস্থান ও ভাষার গুরুত্ব উঠে এসেছে।
নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ, আইন মেনে চলা, অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা প্রতিরোধেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
স্টকহোমের নিকটবর্তী শহর উপসালা থেকে জাতীয় সংসদ (রিক্সদগ) ও পৌর (কমিউন) পরিষদ— দুই নির্বাচনেই প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগাম ভোট দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ভোটের প্রস্তুতি, ভোটারদের তথ্য এবং কীভাবে আগাম ভোট দেওয়া যায়— এসব বিষয়েও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ভোটারদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক পরিষদের প্রার্থী
মুহিবুল এজদানি খান
জাতীয় ও পৌর পরিষদের পাশাপাশি রিজিওন কাউন্সিলেও রয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ। মুহিবুল এজদানি খান ভ্যান্সটারপারিয়েতের হয়ে স্টকহোম রিজিওন কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে রয়েছে ব্রোম্মা-কুংশহোলমেন, সিক্স ইউতেরে ভ্যাস্ত এবং নুরভ্যাস্ত ও নুরঅস্ত।
সুইডেনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে মুহিবুল এজদানি খানের। তিনি ২০১০ ও ২০২২ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া ২০০৬ ও ২০১৪ সালে রিজিওন কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরি জীবনে দীর্ঘ সময় সুইডিশ পোস্ট ট্রেড ইউনিয়নের স্টকহোম সাউথ শাখার নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।
বর্তমানে সুইডেনের আপিল কোর্ট, স্ভেয়া হোভরেতে নির্বাচিত নেমদেমান বা লে-জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহিবুল। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি স্ভেয়া হোভরেতে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণায় শ্রমিকদের অধিকার, সমাজের সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, সবার সমান মর্যাদা, নারীবাদী রাজনীতি এবং বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
দীপক কুন্ডু
দীপক কুন্ডু মডারেট পার্টি বা মডারেতের হয়ে স্টকহোম রিজিওন কাউন্সিল নির্বাচনে ১৯ নম্বর প্রার্থী। তাঁর প্রচারণায় কর্মসংস্থান, দায়িত্বশীলতা, জননিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
যারা কাজ করেন, নিজেদের দক্ষতা বাড়ান এবং দায়িত্ব নেন— এমন মানুষ যেন তাঁদের আয়ের আরও বেশি অংশ নিজেদের কাছে রাখতে পারেন, এমন নীতির পক্ষে কথা বলছেন তিনি।
একই সঙ্গে গ্যাং অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আইন মেনে চলা মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছেন কুন্ডু। স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষার সময় কমানো এবং আরও নিরাপদ সমাজ গড়ার বিষয়টিও তাঁর প্রচারণায় রয়েছে।
হারুন চৌধুরী
আঞ্চলিক ও স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হারুন চৌধুরী। তিনি জার্ফাল্লা পৌরসভা এবং স্টকহোম রিজিওন— উভয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুইডিশ রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত বলে জানিয়েছেন হারুন চৌধুরী। এই সময়ে তিনি রিক্সদগের সাপ্লিমেন্টারি সদস্য, স্টকহোম রিজিওনের রিজিওন কাউন্সিলর এবং জার্ফাল্লা পৌরসভার একাধিকবার পৌর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, যে সমাজে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা বসবাস করছেন, সেই সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায়ও তাঁদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের নারী-পুরুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন হারুন। রাজনৈতিক দল ও আদর্শ ভিন্ন হলেও সুইডিশ সমাজের উন্নয়ন এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে একটি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মূলধারার সুইডিশ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, জয়-পরাজয় সাময়িক হলেও রাজনীতির মূলধারায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পৌর পরিষদের প্রার্থী
তাওহিদ আমানুল্লাহ
স্থানীয় পর্যায়েও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তাদের মধ্যে স্থপতি তাওহিদ আমানুল্লাহ ভ্যান্সটারপারিয়েতের হয়ে সুন্দবিবেরি পৌর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাঁর প্রচারণায় কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সমতা, সংহতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
মানুষের প্রয়োজনকে ব্যক্তিগত মুনাফার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী স্লোগান—‘পো দিন সিদা’, যার অর্থ ‘আপনার পাশে’।
শিমুল সানাউল্লাহ
শিমুল সানাউল্লাহ মডারেট পার্টি বা মডারেতের হয়ে সোলেনতুনা পৌর পরিষদ নির্বাচনে ২৩ নম্বর প্রার্থী। স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে সামনে রেখেছেন তিনি। শিশুদের জন্য ভালো শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপদ ও মানসম্মত প্রবীণসেবা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় কমিউনিটি শক্তিশালী করার কথা বলছেন শিমুল।
এছাড়া প্রাকৃতিক এলাকা রক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরির বিষয়ও তাঁর প্রচারণায় রয়েছে। দায়িত্বশীলতা, সুযোগ এবং বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকারকে স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি করার কথা বলছেন তিনি।
আফতাব জাইগারদার
আফতাব জাইগারদার, পেশায় মাতৃভাষা শিক্ষক, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির হয়ে বুতশিরকা পৌর পরিষদ নির্বাচনে ৩৩ নম্বর প্রার্থী।
শিক্ষাই তাঁর প্রচারণার মূল বিষয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আরও ভালো সুযোগ নিশ্চিত করতে বেশি শিক্ষক এবং ছোট শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আফতাব। ভোটারদের তাঁকে ব্যক্তিগত ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
মো. আরিফ হোসেন মাজুমদার
মো. আরিফ হোসেন মাজুমদার মডারেট পার্টি বা মডারেতের হয়ে তেবি পৌর পরিষদ নির্বাচনে ৩৭ নম্বর প্রার্থী। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা, প্রবীণসেবা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়ন তাঁর প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় ১৪ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে এলএসএস ও সামাজিক মনোরোগসেবায় কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরছেন তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জনকল্যাণমূলক সেবায় বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হবে।
রাজনৈতিকভাবে বৈচিত্র্যময় প্রার্থীরা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এসব প্রার্থী ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারও এক নয়।
ভ্যান্সটারপারিয়েতের প্রার্থীদের প্রচারণায় সামাজিক সমতা, শ্রমিক অধিকার, কল্যাণ, মানবাধিকার ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। সোশ্যালডেমোক্রাত প্রার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জনসেবার ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে মডারেতের প্রার্থীদের প্রচারণায় নিরাপত্তা, কাজ ও দায়িত্বশীলতা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে তাঁদের প্রচারণা শুধু বাংলাদেশি বা অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে নয়। বরং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সব ভোটারের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যাকেই সামনে রাখছেন প্রার্থীরা।
অভিবাসী ভোটারদের দিকেও নজর
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের পাশাপাশি অভিবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও অভিবাসননীতি— এসব ইস্যুতে তাঁদের অবস্থানও নির্বাচনী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সুইডেনের জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রিজিওন ও পৌর পরিষদের প্রতিনিধিরাও নির্বাচিত হবেন। তবে ২৬ আগস্ট থেকেই দেশজুড়ে আগাম ভোট দেওয়া যাচ্ছে এবং যেকোনো আগাম ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের জন্য এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একদিকে যেমন রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ, তেমনি সুইডেনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কতটা বাড়ছে, সেটিও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।