মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আহমেদ আযম খান আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবেই যুদ্ধের নাম “মুক্তিযুদ্ধ” নির্ধারণ করা হয় এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সামরিক শাসন থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তার রাষ্ট্রচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন সাদাসিধে, সৎ, নির্লোভ ও দেশপ্রেমিক একজন রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে ধারণ করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও কর্মপদ্ধতিতে মিতব্যয়িতা, শৃঙ্খলা এবং জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন ছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, মাঠে গিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির বার্তা দিয়েছেন এবং গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করে।
আহমেদ আযম খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য প্রাসঙ্গিক।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।