রাজধানীতে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের টিকা দিতে এসে স্বস্তি প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সময়মতো টিকা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কামরাঙ্গীচর থেকে আট মাস বয়সী কন্যাশিশু সুমাইয়া আক্তারকে টিকা দিতে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আসেন মা রত্না বেগম। তিনি জানান, আশপাশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। টিকা দিতে পেরে এখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন, যদিও লাইনে অপেক্ষার ভোগান্তি ছিল।
লালবাগ এলাকা থেকে তিন বছরের সন্তানকে টিকা দিতে আসা শামসুন্নাহারও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং এ ধরনের উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, সকাল থেকে নিয়মিতভাবে টিকা কার্যক্রম চলছে এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ আরও কয়েকটি বড় এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় চার লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য শত শত স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকেই শিশুদের ভয় দূর করতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার টিকা শেষে ছোট উপহার দেওয়ার আশ্বাসও দিচ্ছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, কিছু কেন্দ্রে ভিড় বেশি হলেও টিকা সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামের ঝুঁকি কমাতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অধিকাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সফলভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।