আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও সড়ক ভবনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রতিদিন সড়কে অগণিত প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০-২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৮৪ জনে। এ পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে শেখ রবিউল আলম বলেন, অতীতে এ ধরনের প্রকল্পে যেভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তা সড়ক নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, সেটি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটির বাজেট পুনর্বিন্যাস করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইওয়ে পুলিশ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক ব্যবস্থাপনা সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালনা করতে হবে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সার্বিক ‘নিরাপদ সড়ক আইন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
চালক ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অপ্রশিক্ষিত চালকের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনেক চালক সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে গাড়ি চালানো শেখেন, কিন্তু ট্রাফিক আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে তাঁদের যথেষ্ট ধারণা থাকে না। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চালকদের প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা হাট-বাজার এবং যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের প্রবণতা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক থেকে সরানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০ বছর মেয়াদি বাস এবং ২৫ বছর মেয়াদি ট্রাক স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করে এসব যানবাহন ধ্বংস বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। মহাসড়কের প্রতি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহাসড়কসংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে বিশেষ জরুরি চিকিৎসা ইউনিট প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি এবং হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।