আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসন এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার থিংকুপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, এনডিসি, পিএসসি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি ঝিরি থেকে ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে ৮ আউটলেটের সাহায্যে থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ার বাসিন্দাদের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পানি সংগ্রহে সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
১০ কিলো এলাকার থিংকু পাড়ার কারবারী বিশ্ব ত্রিপুরা বাসসকে বলেন, আমাদের গ্রামের লোকজনকে এক সময় অনেক কষ্ট করে ঝিরি ঝর্ণা পানি পান করতে হতো। শুকনো মৌসুমে ঝিরিগুলো শুকিয়ে গেলে আমরা আর পানি পাইনা কোথাও।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে পাইপ লাইন দিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ।