পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। টানা সাতদিনের ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে ঢাকার বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান, বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এবারও ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসব স্থানে ভিড় জমাবেন।
রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক ও শিশু মেলাসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন সেবা।
মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঈদের সময় এক থেকে দেড় লাখ দর্শনার্থী আসতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবার ১৪টি বুথে টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা লাইন, পার্কিং সুবিধা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। অচল সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য নির্দেশনামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
চিড়িয়াখানা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। দুই বছরের কম বয়সী শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য টিকেট লাগবে না।
এদিকে শ্যামলীর শিশু মেলাও ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০টি রাইড রয়েছে, যার মধ্যে পরিবারের সবাই উপভোগ করতে পারবেন এমন রাইডও রয়েছে বেশ কয়েকটি। ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শিশু মেলা। প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ১০০ টাকা।
রাজধানীর ব্যস্ত নাগরিক জীবনে স্বস্তির জায়গা হয়ে ওঠা হাতিরঝিলেও থাকবে বাড়তি আকর্ষণ। চক্রাকার বাস সার্ভিস, ওয়াটার বাস এবং লেকপাড়ের রেস্টুরেন্টগুলো ঈদে দর্শনার্থীদের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যেও দর্শনার্থীদের আগ্রহ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। টিকেটের মূল্য ২০ টাকা। অন্যদিকে আহসান মঞ্জিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া ঢাকার বাইরে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কেও ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও দর্শনার্থীসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সব বিনোদনকেন্দ্রেই।