দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাকে ভেঙে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে প্রতিটি অঞ্চলে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার বড় অংশই ঢাকাকেন্দ্রিক, যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে ধাপে ধাপে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সেবা বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যখাত পরিচালনা করছে। রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোক মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার মডেলের আদলে প্রতিটি উপজেলায় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ইউনিটে দায়িত্ব পালনের জন্য সারাদেশে ধাপে ধাপে ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী।
মা ও শিশুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নিরাপদ প্রসব, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে এবং দেশের যেকোনো হাসপাতালে সহজে চিকিৎসাসেবা নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কোনো নাগরিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সবশেষে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিমূলক, মানবিক এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁদের নেতৃত্ব দিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে একটি কার্যকর ও আস্থাশীল সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা।