ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কাতারে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ৬৬ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দেশটির অন্তত ১৬ জন নাগরিক আহত হয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খলিফা আল-মুফতাহ এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, ৬৬টি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের দিকে ছোড়া হয়েছিল এবং দেশজুড়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ার ১১৪টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আহতদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে জনগণকে সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে এবং ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানায়। তারা কোনো অজানা ধ্বংসাবশেষ স্পর্শ না করতে এবং এ ধরনের কিছু পেলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেয়।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা দ্বিতীয় দফার আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যা বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্য করেছিল। সব ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তারা জানায়। নাগরিকদের শান্ত থাকতে ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাতারের ভূখণ্ডে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এটি সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান ইব্রাহিম সুলতান আল-হাশেমি বলেন, এই হামলা “সদ্ভাবপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার কাতার সংরক্ষণ করে।
মন্ত্রণালয় উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধ করে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে হামলার শুরু করার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে এবং জর্ডানও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
এটি কাতারের ওপর প্রথম ইরানি হামলা নয়। ২০২৫ সালের জুনে, ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়, ইরান আল ইউডদেইদ এয়ার বেইসে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে—যা দোহার কাছে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।