দেশে গণমাধ্যমের বিদ্যমান স্বাধীনতা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এ স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করে যাবে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘হুজ হু বাংলাদেশ ২০২৬’ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, আর এই সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বিতর্কে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং জাতীয় সাফল্যের দিকে মনোযোগ দেওয়াই সময়ের দাবি। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষের সেবায় যুক্ত হন এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অনুষ্ঠানে ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননা পান বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কৃষিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, শিল্প ও সংস্কৃতিতে ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা), শিল্প ও সাহিত্যে কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম এবং শিক্ষায় মনসুর আহমেদ চৌধুরী সম্মাননা লাভ করেন।
এ ছাড়া উদ্যোক্তা পুরস্কারে পুরুষ বিভাগে এরশাদ উল্লাহ এবং নারী বিভাগে কনা আলম, পেশাজীবী বিভাগে শাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিকতায় শফিক আহমেদ, ক্রীড়ায় সাঈদ উর রব এবং সমাজসেবায় শান্তি শ্রী সম্মাননা পান। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘হুজ হু’ ১৮৪৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পরপর এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।