গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙনে শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও প্রায় ২৫০ পরিবার। এতে ওই এলাকায় চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীতেও পানি বাড়ছে।
গত বুধবার ভোর থেকে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়। ওই দিনই ৮৩ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত আরও প্রায় ২০ পরিবারের বাড়িঘর আংশিকভাবে বিলীন হয়েছে। সব মিলিয়ে শতাধিক পরিবার পুরো বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, অন্তত ১৫টি পরিবার ঘর, টিন, বাঁশ, আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ভাঙনের তোড়ে গাছপালা, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিও ভেসে গেছে। অন্যরা আংশিক ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে কিছু মালপত্র সরিয়ে নিতে পেরেছেন।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও প্রায় ২৫০ পরিবার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব পরিবারও বাড়িঘর হারাতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বর্ষায় কয়েক দফা ভাঙনের কারণে এলাকাটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট নদীতে বিলীন হয়েছে চর এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত জুলাই থেকে পানি বাড়া-কমার মধ্যে শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলা হলে ভাঙনের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এলাকা পরিদর্শন করে বিদ্যালয়সহ বসতভিটা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও জানান তারা।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনপ্রবণ। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলা গেলে মানুষের বসতভিটা, বিদ্যালয়, জমি ও গাছপালা রক্ষা করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে পাউবো কাজ শুরু করেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়ার পর ওই এলাকায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজটি করা হচ্ছে।