কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দসহ মাদক পাচারে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি ও একটি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন পালংখালী বিওপির টহলদল সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ২টা ২০ মিনিটে জেলের ছদ্মবেশে মাছের ঝুড়ি হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি সদস্যরা। পালানোর চেষ্টার সময় তাকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার ঝুড়ি থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. ইমরান (৩৪), তিনি উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে খারাংখালী বিওপির টহলদল সীমান্তবর্তী বিএসপি পোস্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে দুই ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেখে চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। তল্লাশিতে পোটলা দুটি থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পালংখালী বিওপির টহলদল পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় মাঝির ছদ্মবেশে নৌকায় মিয়ানমার থেকে আসা একজনকে দেখে চ্যালেঞ্জ করে। ওই ব্যক্তি নৌকা থেকে লাফিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। নৌকা তল্লাশি করে পাটাতনের নিচে লুকানো ব্যাগ থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয় এবং নৌকাটি জব্দ করা হয়।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি শীলখালী চেকপোস্টে পৌঁছালে বিজিবি সদস্য ও ডগ হেনরি (নারকোটিক্স) গাড়িতে তল্লাশি চালায়। চালকের স্টিয়ারিংয়ের কাছে লুকানো ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় চালক মো. ওমর ফারুককে (১৯) আটক করা হয়, যিনি কক্সবাজার সদরের পিএমখালী তুতখালী গ্রামের বাসিন্দা। গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানান, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির জন্য বহন করছিলেন। ওমর ফারুক জানান, তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে মাদকসহ অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে বিজিবির অভিযান চলমান থাকবে।