শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে দেশের চামড়া খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
শনিবার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার, সিইটিপি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়া যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী না হওয়ায় এই শিল্প প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে গত কয়েক বছরে চামড়া খাত নানা সংকটের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশে সারা বছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এসব চামড়া যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা যায়, তাহলে এ খাত থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঈদ মৌসুমে ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রি-ট্রিটমেন্টের মান বজায় রেখে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ঈদ মৌসুমে এই চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছায়। ফলে সিইটিপির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক ও কারিগরি সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় ইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। প্রয়োজন হলে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তাও দেবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত, আধুনিক ও রপ্তানিমুখী ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ট্যানারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।