প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয় এবং সুযোগের অপেক্ষায় আছে, তাই জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উক্তি, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা” স্মরণ করে বলেন, মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি সংকটময় সময়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তারা জাতির শ্রদ্ধার দাবিদার।
স্বাধীনতা পুরস্কারকে দেশের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করতেই ১৯৭৭ সালে এই পুরস্কার চালু করা হয়। তিনি ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার কারণে ইতিহাসকে অস্বীকার করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা ক্ষমা করবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।
তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের কাজ আজকের বাংলাদেশকে যেমন সমৃদ্ধ করবে, তেমনি আগামী প্রজন্মের জন্যও তা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের অবদান একসময় যথাযথ স্বীকৃতি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই অবস্থায় প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান-উপযোগী করতে হবে। দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কার্যকর হবে না বলেও তিনি মত দেন।
নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দলীয় ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে এবং তা পূরণে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও সমানভাবে জরুরি। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে দাম বাড়ায়নি; বরং বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে পারিবারিক জীবন পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান, এবং তিনি হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।