ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমিত সংখ্যক গোষ্ঠীর প্রভাব এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কারণে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, যেখানে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ সুবিধা ভোগ করলেও সাধারণ উদ্যোক্তারা নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে প্রতিযোগিতামূলক ও সমান সুযোগভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা এবং উন্নয়নের সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া।
গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র উৎপাদকরা যুগের পর যুগ উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নীতিগত সহায়তা ও বাজারসুবিধার অভাবে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এসব জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে রাজধানীর অদূরে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সেখানে ক্ষুদ্র ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসুবিধা, কাঁচামাল সরবরাহ, ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে অনলাইনভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে স্থানীয় বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে তিনি জানান, একক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একটি আবেদন করেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন ও অনুমোদন কার্যক্রম শেষ করার ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির সমন্বয়ে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।