মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টানা তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
এদিকে উপকূলের আকাশ এখনও ঘন মেঘে ঢাকা। নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরের বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমী নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
একারণে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের ট্রলারচালক হাবিব মিয়া বলেন, গত পরশু দিন থেকে এখনও আমরা ট্রলার নিয়ে ঘাটে অবস্থান করছি। একদিনে কোনো মাছ ধরতে পারি নাই। আবহাওয়া এমন থাকলে আমাদের কষ্টের শেষ থাকবে না।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে রয়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী মীম বলেন, সকাল বেলা উঠে পরীক্ষা দিতে আসার সময় গাড়ি পেতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটা অটোরিকশা পেয়ে তাতে উঠে পরীক্ষা দিতে আসছি, তাও বৃষ্টিতে জামাকাপড় ভিজে গেছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। সাথে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।