বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীকেন্দ্রিক নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ‘টিক্কা বাহিনী’র প্রধান মজিবুর রহমান আকন ওরফে ‘টিক্কা’কে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ।
অভিযান চলাকালে ডাকাত সর্দারের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টিক্কা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন নদীপথে মালবাহী ট্রলার, বাল্কহেড ও নৌযানে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। রাতে নৌযান থামিয়ে মাঝি ও শ্রমিকদের মারধর, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তার হওয়া মজিবুর রহমান আকনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গাজীপুরের পুবাইল থানার মাজুখান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর টিক্কাকে আটক করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের সময় পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান মাথা, মেরুদণ্ড ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান। এসময় পুলিশ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ দাউদ ও কনস্টেবল সজিব মিয়াও আহত হন।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আটক টিক্কার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।