প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি এবং তথ্যযুদ্ধের মতো বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় পিজিআরসহ সব বিশেষায়িত বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’—এই আদর্শ ধারণ করে পিজিআরের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্ব, সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালনের ক্ষেত্রেও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বক্তব্যে তিনি পিজিআরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এ বাহিনী পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ নামে নতুন পরিচয় লাভ করে। এ বাহিনীর বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের সময় দায়িত্ব পালনরত পিজিআরের সদস্যদের আত্মত্যাগও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মোৎসর্গ বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, পিজিআর সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। তাই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, বিশ্বস্ততা, শৃঙ্খলা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন।
তিনি আরও জানান, পিজিআর চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে, যা বাহিনীর জন্য একটি গৌরবের অর্জন। এ সাফল্যের জন্য তিনি বাহিনীর সব সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআরের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকেও আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে পিজিআর ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করবে।