প্রগতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও দেশের সামগ্রিক কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনার কেন্দ্র। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হবে, তবে লক্ষ্য থাকবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, এই ধরনের রাজনৈতিক আচরণ দেশের জন্য কতটা ইতিবাচক তা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে দেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া অভিযোগ করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী।
আলোচনায় সরকার দলীয় সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করেন। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা এর সমালোচনা করে সরকারকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ভিন্নমত প্রকাশ করেন।
সামগ্রিকভাবে, আলোচনায় দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের চর্চা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।