একদিকে মসজিদে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে পূজামণ্ডপে কাঁসর-ঘণ্টা। মাঝখানে মসজিদ, দুই পাশে দুটি পূজামণ্ডপ। ধর্মীয় আচার পালনে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রায় তিন দশক ধরে এভাবেই সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ফরিদপুর শহর।
শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়সংলগ্ন মডেল মসজিদের দুই পাশে রয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির দুটি পূজামণ্ডপ। মসজিদ ও মণ্ডপের এমন সহাবস্থান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্গাপূজার সময়ও এলাকাটিতে বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। নামাজের সময় পূজামণ্ডপে বাজনা বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক শহর। মাঝখানে মসজিদ আর দুই পাশে পূজামণ্ডপ থাকলেও এ নিয়ে কখনো কোনো বিরোধ তৈরি হয়নি। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা বহু বছর ধরে পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সম্প্রীতির এ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ফরিদপুরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং উৎসব পালন করছেন। সম্প্রীতির এ পরিবেশ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের আনসার ব্যাটালিয়নের উপপরিচালকের পক্ষে মাদারীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তানজিনা জানান, এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। একই জায়গায় মসজিদ ও পূজামণ্ডপের সহাবস্থান সারা দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে।
ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা, ধর্মীয় সম্প্রীতির এ বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।