ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরকার ও আদালত দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে আয়োজিত ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফএসিডি-ক্যাব) ১৪তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা এক্সপো-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি ইঙ্গিত করে এ্যানি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এরই মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হলে তৃতীয় কোনো পক্ষ সেই সুযোগ নিতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা এক্সপোর গুরুত্ব তুলে ধরে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনব্যাপী এ শিক্ষা এক্সপোতে বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রায় ৩০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, মেধাবীরা বিদেশে গেলে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ তৈরি হয়। বিদেশে অবস্থানরত মেধাবীরা ভালো কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এফএসিডি-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যরা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে ভূমিকা রাখছেন। এ খাত থেকে সরকার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ কেটে নেয় উল্লেখ করে তিনি তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, এফএসিডি-ক্যাবের সদস্য না হয়েও অনেকে বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর ব্যবসা করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এডুকেশন বিডি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, এফএসিডি-ক্যাবের সদস্যরা বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও সংগঠনটি এখনো অবহেলিত।
বক্তারা বলেন, বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই। কেউ কেউ শুধু নামসর্বস্ব ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে একটি জাতীয় ‘আউটবাউন্ড ডাটাবেজ’ তৈরির দাবিও জানান বক্তারা। প্রতিবছর কতজন শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছেন এবং তাঁরা কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন—এসব তথ্য ওই ডাটাবেজে সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা এক্সপোতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ভর্তি প্রক্রিয়া, বৃত্তি, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রায় ৩০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।