অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, এনইসি সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করতে সরকার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, এডিপি গ্রহণ করেছে। এই উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হবে।
নতুন এডিপি উচ্চাভিলাষী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগ অপরিহার্য। বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন কোনোটিই সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে সরকার আত্মবিশ্বাসী। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সরকার প্রমাণ করেছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে।
ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় এডিপি নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নলকূপের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নলকূপে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে আবার পানি ওঠাতে আগে পানি ঢালতে হয়। একইভাবে দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে।
আমির খসরু বলেন, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, ফান্ড ম্যানেজার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক আলোচনায় জেপি মর্গানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা দেখে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের নেতৃত্ব কোন পথে এগোচ্ছে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং সংস্কার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করছে।
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও বিশ্বের নিম্নতম পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে হলে এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার চলছে এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই করদাতারা করের বোঝা বহন করেছেন, কিন্তু করের আওতা বাড়েনি। এখন আরও বেশি মানুষকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হলে উন্নত সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। আগে সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর হাতে চলে যেত, এখন তা জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি আলাদা আলাদা উপকারভোগী গোষ্ঠীর জন্য নেওয়া হয়েছে। যে কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন, তিনি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সঙ্গে একই ব্যক্তি নাও হতে পারেন। তাই কর্মসূচিগুলো লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।