যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৭০০টি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (টার্গেট ব্যাংক) হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। যেকোনো নতুন হামলার জবাব ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক রাসুল সারদার জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৭০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার কথা বলেছেন। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোও থাকতে পারে।
এদিকে ইরানের এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বরং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।
রুবিও জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তাঁর জানা নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর, কুয়েত ও জর্ডানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং ইরাকের এরবিলের স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।
গত জুলাইয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছিল।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানে হামলা হলে তার জবাব কখন এবং কোন শর্তে বন্ধ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।