সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে কিছু খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকেই ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এসব খাবার সাময়িকভাবে তৃপ্তি দিলেও নিয়মিত অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ ও পূর্ণ শস্য রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত লবণ ডেকে আনে উচ্চ রক্তচাপ
চিপস, চানাচুর, আচার, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে। তাই খাবারে বাড়তি লবণ দেওয়া এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো উচিত।
বেশি চিনি বাড়ায় ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, আইসক্রিম ও কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। নিয়মিত বেশি চিনি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয় ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এসব খাবার ও পানীয়ের পরিবর্তে পানি ও চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
ভাজাপোড়ায় বাড়ে ক্যালরি, ওজন
সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, পরোটা ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ে ক্যালরি ও তেলের পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত এসব খাবার খেলে ওজন বাড়তে পারে। একই তেল বারবার ব্যবহার করে তৈরি খাবারও এড়িয়ে চলা ভালো। ভাজাপোড়ার পরিবর্তে সেদ্ধ, ঝলসানো বা অল্প তেলে রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংসে ক্যানসারের ঝুঁকি
সসেজ, সালামি ও বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এসব খাবারে লবণ ও বিভিন্ন সংরক্ষণ উপাদানও থাকতে পারে। তাই প্রক্রিয়াজাত মাংস যতটা সম্ভব কম খাওয়া ভালো। বিকল্প হিসেবে মাছ, ডাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে।
চর্বিযুক্ত খাবারে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল
চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, ঘি ও কিছু বেকারি পণ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাছ, বাদাম ও পরিমিত উদ্ভিজ্জ তেল বেছে নেওয়া ভালো।
ফাস্ট ফুডে বাড়তি লবণ-চিনি
বার্গার, পিৎজা ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বি থাকতে পারে। এসব খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করলে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব খাবার না খেয়ে তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল ও পূর্ণ শস্য খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। কোনো খাবার অকারণে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণ ও পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে খাওয়াই ভালো।