দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই মাসে ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সরকার দ্রুত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসন, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে কাজ করছে।
শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক নীতির ভিত্তিতে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের দিকও তুলে ধরা হয়। মাহদী আমিন জানান, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জেলার ২২ হাজার কৃষককে এর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইন ও নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রেও সরকার স্বল্প সময়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি হয়েছে। আরও ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে বিল আকারে সংসদে তোলা হবে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতির প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার ভর্তুকি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে বলেও তিনি বলেন।
প্রবাসী, শ্রমবাজার ও ধর্মীয় বিষয়ে সরকারের নানা উদ্যোগও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। মাহদী আমিন বলেন, প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, হজযাত্রার টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা খরচ কমানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের সম্মানী প্রদানের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পদক্ষেপের বিষয়েও মুখপাত্র গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবহার না করে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন, ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করেছেন এবং মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এসব উদ্যোগকে ব্যয়সংকোচন ও রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম দুই মাসেই একাধিক খাতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে এনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।