প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, গত ১৭ বছর দেশে জনগণের ভোটাধিকার ছিল না। সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচনেরও সুযোগ ছিল না। তার মতে, ওই দীর্ঘ সময়ে দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরতন্ত্র ছিল। ফলে উন্নয়নের যে বয়ান দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ফানুসের মতো ফেটে গেছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমরা এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যা অত্যন্ত ভঙ্গুর। এর ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ঋণখেলাপিদের শীর্ষে অবস্থান করছে।’
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে নানা কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সংকটের মতো পরিস্থিতির মধ্যেও জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পথ তৈরি করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নারীর আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের পথ তিনি উন্মুক্ত করেন। নারীর অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে জায়গা করে নেয়।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে উৎপাদনকেন্দ্র বা প্রোডাকশন হাব স্থাপন করা হবে।
ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রমা সেন্টার না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২১ জেলার মানুষ যে উপজেলার ওপর দিয়ে যাতায়াত করে, সেখানে ট্রমা সেন্টার নেই। ভাঙ্গায় ট্রমা সেন্টার না থাকা ‘জাতির জন্য একটি ট্রমার বিষয়’।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। অথচ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। বৃহত্তর ফরিদপুর, এমনকি গোপালগঞ্জসহ এ অঞ্চলে বেকারত্বের হার বেশি। তার দাবি, উন্নয়নের নামে সেখানে ‘লুটপাটতন্ত্র’ চালু ছিল।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বিটু মুন্সী এবং ভাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সভাপতি ওসমান মুন্সী প্রমুখ।