বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আজ বুধবার সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরোলেও পর্যটন খাতে উন্নয়নের নজির কম। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই আমরা পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। তবে দেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার এই যাত্রা সহজ হবে না, এতে আমরা সব অংশীজনকে পাশে চাই।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আপনাদের সহযোগিতায় আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব বলে আশা রাখি। যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার যাচাই করতে হবে। সে জন্য আমরা প্রতি মাসেই বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে বসতে চাই, যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি না থাকে।’
তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা ‘এসডিজি ভিলেজ’—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামসহ আরও কয়েকটি গ্রাম নিয়ে পর্যটন স্পট তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এভাবে সারা দেশের ৬৪ জেলার সম্ভাব্য পর্যটনস্থান চিহ্নিত করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিতে চায় বর্তমান সরকার।
সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, ‘পর্যটন খাতের তথ্যঘাটতি দূর করতে আমরা ইতিমধ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ)-এর কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। অতীতে সমন্বয়হীনতার কারণে এই খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে সেই সমন্বয়হীনতা দূর করে আমরা পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’
সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থান, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, কর্মপরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।