কুমিল্লায় ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে—এমন স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আটকদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ চার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। পুলিশের দাবি, তিনি গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে রতন গ্রুপের চার সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক গ্রুপটির প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিক বর্তমানে গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আনিক এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।
কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের পরিচয় ও আগের অপরাধের তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার কুমিল্লার ১৮টি থানায় একই ধরনের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কোটবাড়ি থেকে নিখোঁজের পরদিন লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশের ভাষ্য, তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর একটি রতন গ্রুপ বা ‘আর স্কোয়াড’। ২০১৫ সালের দিকে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আলোচনায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রুপটির নাম সামনে এসেছে।