দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় চার বছর পর আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার (২৮ জুন) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে গত বুধবার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বুধবার ছিল ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে— তখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে।
রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড় হওয়ার পর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।