সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, একটি জ্ঞাননির্ভর ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় গর্ব, আর সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ও সমাজে জ্ঞানের বিস্তার ঘটাতে গ্রন্থাগারকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত বেসরকারি গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক ও প্রতিনিধিদের জন্য চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী গ্রন্থাগারিকদের সমাজে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা কেবল পেশাজীবী নন, বরং সমাজকে আলোকিত করার একেকজন দূত। তিনি পরামর্শ দেন, গ্রন্থাগারকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে তা মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, লাইব্রেরির পরিবেশ উন্মুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন হলে বাইরে থেকেও মানুষ বইপড়ার পরিবেশ দেখে উদ্বুদ্ধ হবে।
তরুণ সমাজকে মাদকসহ নানা সামাজিক বিপর্যয় থেকে দূরে রাখতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, জীবনঘনিষ্ঠ, মূল্যবোধভিত্তিক ও শিক্ষামূলক বইয়ের পাঠও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর মাধ্যমেও তরুণদের ইতিবাচক পথে রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান কানিজ মাওলা। তিনি বলেন, প্রতিটি লাইব্রেরিতে শিশুদের জন্য আলাদা কর্নার থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা আনন্দময় পরিবেশে বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে এবং ছোটবেলা থেকেই পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের গ্রন্থাগারিক ও উপ-পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার।
উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার ৬৪তম ব্যাচে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৩২ জন গ্রন্থাগারিক অংশ নিয়েছেন।