বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা টিকা (TİKA)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে টিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তুরস্ক যে সাফল্য অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি এবং সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী ১০ বছর বয়সেই মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের সময় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন, অবকাঠামো পরিকল্পনা ও নন-ফরমাল শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই ধরনের সহযোগিতা তুরস্কের সঙ্গেও আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
এ সময় টিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নেতৃত্ব, কর্মস্পৃহা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রশংসার দাবি রাখে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে তার উদ্যোগ ও সংস্কারমুখী চিন্তাভাবনা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।