কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, জিসান আহম্মেদের সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী এ কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা দেবে সংগঠনটি। তবে একই সঙ্গে জিসানের নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্নও তুলেছে ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির দাবি, পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্য কিংবা সংগঠনের কোনো প্রতিনিধিকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নিখোঁজ থাকার বিষয়ে জিসানের নিজস্ব বক্তব্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে মামলার বাদী নারীর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে ছাত্রশিবির দাবি করেছে, ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সীমিত রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট এখনও পরিষ্কার নয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে এক নারী জিসান আহম্মেদ প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জিসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।