তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শুধু ১৪০ কোটি কিংবা ২০ কোটি মানুষের ঐক্যের কথা বললে হবে না; আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সার্কভুক্ত ২২০ কোটি মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যারা এ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে চাইবে, তাদের অবস্থান সন্দেহের চোখে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষীদের ভাষা এক হলেও তাদের মনোজগৎ ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি এক নয়। বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দর্শন।
তিনি বলেন, “সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালিত্বের সনদ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি এবং আমাদের নিজস্ব জাতীয় পরিচয় রয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, জাতি যখন সংকটময় সময় পার করছিল, তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান। তার দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ অতীতের তুলনায় জনগণের জন্য অধিক কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু কারা, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই ‘আমরা বাংলাদেশী’ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। যারা ‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণা প্রচার করছেন, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এক ধরনের জাতীয় ঐকমত্যের দলিল। এর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তিনি বর্তমান বাজেটকে জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বর্তমান বাজেটে জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং দলটি সনদের স্বাক্ষরিত অংশগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন অপপ্রচার সত্ত্বেও বিএনপি সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ‘আমরা বাংলাদেশী’-এর উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকেই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা রাশেদ খান, মোমিনুল আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।