যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি অভিযোগ করেছে, এ ধরনের মহড়া কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বক্তব্য প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই একটি ‘পারমাণবিক জোটে’ পরিণত হচ্ছে। এর জবাবে নতুন মাত্রার হুমকির বিপরীতে নতুন মাত্রার প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
আগামী ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। মহড়ায় ড্রোন হামলা, জিপিএস ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী কমান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা এবং উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের প্রশিক্ষণ সাজানো হয়েছে। মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনাসদস্য অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার সদস্যরাও যুক্ত থাকবেন।
এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগাতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের এই বৃহৎ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি পরপর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। সর্বশেষ বুধবার দেশটি কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তারা নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা কমিয়ে এনে বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।