কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক পলিসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিখাতকে আরও সক্ষম ও লাভজনক করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বাস্তবভিত্তিক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদন করলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যায়। এ সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকের কাছাকাছি পর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজ ১৫ থেকে ২০ জন কৃষককে নিয়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এগুলো হবে সৌরবিদ্যুৎচালিত, ফলে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং কৃষক পর্যায়ে ব্যবহার সহজ হবে। পাইলট প্রকল্পে এ ব্যবস্থার সফলতা পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি এর সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার চাহিদার মধ্যে সমন্বয় আনতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য পেতে পারেন।
পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তাঁর আশা, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে।
মাটির অম্লতা কমিয়ে উর্বরতা বাড়ানো, সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেচযন্ত্র সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ এবং গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল। এতে নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।