আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ে সচেতনতা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংঘাতের সময়ও মানবজীবনের মূল্য ও মর্যাদা সর্বাগ্রে। তাই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূলনীতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান নিকোলাস পল আলবিন ফ্লুরির সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব, প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
সাক্ষাৎকালে সংঘাতের সময় সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশু, আহত ও অসুস্থ ব্যক্তি, চিকিৎসাকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের মধ্যেও মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটেও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বাস্তবভিত্তিক পাঠ, কেস স্টাডি, সেমিনার এবং প্রশিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও বিশেষভাবে উঠে আসে। দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের উদ্দেশ্য ও মানবিক মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা সম্ভব বলে মত দেন আলোচকেরা।
একই সঙ্গে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষা, গণমাধ্যম ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও সাইবার কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও মানবিক ও আইনগত বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।