যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত মোস্তাফা কিয়ান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট রায় বহাল রাখার পর আলবোর্জ প্রদেশে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি যুদ্ধকালীন সময়ে বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কাছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান ও তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তে বলা হয়, তিনি একাধিক বার্তার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা কারখানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর বিস্তারিত তথ্য পাঠান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে— তথ্য পাঠানোর কয়েকদিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর একটি হামলার শিকার হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এরপর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মোস্তাফা কিয়ান জানান, একটি নির্দিষ্ট যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি তথ্য আদান-প্রদান করতেন। মামলার শুনানিতে তার ব্যবহৃত ফোন, বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
ইরানের আদালত তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও শত্রুপক্ষকে সহায়তার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে রায় বহাল রাখে।
ইরানি বিচার বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নীতির আওতায় গ্রেপ্তার থেকে দণ্ড কার্যকর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ৫০ দিনের কম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।