রাজশাহীর স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘নেসকো কেন, কোনো কিছুই রাজশাহী থেকে যাবে না। মন্ত্রিত্ব বা এমপি পদ বড় নয়, রাজশাহীর স্বার্থই বড়।’
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নেসকো (নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি) দপ্তর রাজশাহীর বাইরে স্থানান্তরের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহীতে আমার জন্ম, এখানেই আমার মরণ। আমার জীবনকেও উৎসর্গ করতে পারি রাজশাহীর জন্য। রাজশাহীর স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। কোনো ঠিকাদারের কথায় কোনো অফিস এখান থেকে যাবে না। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। রাজশাহীর স্বার্থ রক্ষায় আমি সব সময় অটল থাকব।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে কাজ চলছে। শহীদ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে। ছাত্র-জনতা যে সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয় নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে শহীদ শাকিব আঞ্জুমের বাবা উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে ভূমিমন্ত্রী জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আজ সকাল থেকেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষের ঢল নামে। শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি নগরজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।