র্যাগিংয়ের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করেন। এ সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, এ ঘটনা ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’–এর ৫(উ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মাহফুজুর রহমান, আবদুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায়, আবু আবতাহী অনিক, রায়হান খান, নাঈমুল হাসান, ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান।
এর আগে শুক্রবার রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবীনদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেন। সেখানে কান ধরানো, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর নামে তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, র্যাগিং চলাকালে এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতির কাছে খবর দেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান এবং অভিযুক্তদের আটক করে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।