আজকের দিনটি ইতিহাসের পাতায় ব্যানার হেডিং এ লেখা হয়ে গেল। ইরানের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শুরু হলো আজ থেকে।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা ও শোক মিছিলের প্রথম দিনে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং তার সঙ্গীদের প্রতি বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী’র জানাজার প্রথম পর্যায় শুরু করেছে ইরান। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। শুক্রবার ভোরে শহীদ নেতার মরদেহ,তার সঙ্গীদের মরদেহসহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয় এবং দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন বিদায় অনুষ্ঠানের আগে প্রধান প্রার্থনা কক্ষে রাখা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী প্রথম বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় স্কলার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। শহীদ সর্বোচ্চ নেতাকে সম্মান জানাতে ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী শহীদ হন। শহীদ নেতার জানাজায় যোগ দিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ শতাধিক দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইরানে পৌঁছেছেন।
বহুদিন পর নেতা ফিরলেন আবাসস্থলের কাছে! শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর শেষ বিদায়ের শোকানুষ্ঠান মূলত গতরাত (বৃহস্পতিবার রাত) থেকেই শুরু হয়। গতরাতের শোকানুষ্ঠানটি ইমাম খোমেনী হুসাইনিয়ার পাশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি মূলত নেতার শাহাদাতস্থলের ঠিক পাশেই অবস্থিত। বহুদিন পর আবাসস্থলে ফিরলেন বিশ্ব-জালিমের আতঙ্ক আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী! শোকাবহ এ অনুষ্ঠানে আহলে বাইত (আ.)-এর স্মরণে শোকগাঁথা পাঠকারীরা নানা শোকগাথা পরিবেশন করেছেন এবং ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার শোকে নওহা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই শোকানুষ্ঠানের পর আজ শুক্রবার থেকে শহীদ নেতার এই সর্বজনীন বিদায় পর্ব শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধে নেতার পরিবার এবং তাঁর কার্যালয়ের কর্মীদের আত্মীয়রা শহীদ নেতাকে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বস্তরের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতির উদ্দেশ্যে এক্স পোস্টে প্রেসিডেন্টের বার্তা
‘বীরোচিত ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে,তখন আমি জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যা জাতীয় ঐক্য এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মহান আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরবে।’
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই বহু-দিনব্যাপী জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন শোকাহত মানুষের সমাগম হবে। শনি ও রবিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ শায়িত রাখার পর সোমবার তেহরানের মধ্য দিয়ে শোক শোভাযাত্রা বের হবে এবং অনুষ্ঠান চলবে। পবিত্র ধর্মীয় নগরী কোমে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত রয়েছে। এরপর ইরাকের বাগদাদ,কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান হবে এবং সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে, ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত হওয়ার বার্ষিকী এবং প্রয়াত নেতার স্মরণ—উভয়ই ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার প্রতিফলন।
তিনি এক্স এ লিখেছেন, আজকের দিনে, ইরানি জাতি তার শহীদ নেতার স্মৃতিকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি ফ্লাইট ৬৫৫-এর শহীদদেরও স্মরণ করছে। ১৯৮৮ সালে পারস্য উপসাগরের আকাশে ইউএসএস ভিনসেন্স কর্তৃক ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত করার বার্ষিকী হিসেবে ইরান ৩ জুলাই পালন করে,যে ঘটনায় ৬৬ জন শিশুসহ বিমানে থাকা ২৯০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরবর্তীতে যুদ্ধজাহাজটির কমান্ডারকে পদক প্রদান করার জন্য ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
লেখক: রেডিও তেহরানের সদ্য সাবেক সাংবাদিক।