প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে সরকার চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সাংস্কৃতিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্যক্রমে আবৃত্তি, ক্বেরাত, নাচ, নাটক ও সঙ্গীতসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন। তাই সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সঙ্গীত মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দুঃখ, আনন্দ, প্রেম কিংবা আবেগ—সবকিছুর প্রকাশে সঙ্গীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশেও সঙ্গীতের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, দেশে অনেক সময় সংস্কৃতি ও ধর্মকে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশে সঙ্গীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসেও সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষকে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যের পথে উদ্বুদ্ধ করার বহু উদাহরণ রয়েছে।
সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিকাশে তাঁদের অবদান অনন্য। নতুন প্রজন্ম নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার আলোকে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ অন্যান্য শিল্প-সাহিত্যকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করবে, যা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক।
ভাষা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষা একটি ক্রমবিবর্তনশীল বিষয়। সময়ের সঙ্গে ভাষার ব্যবহার ও প্রকাশভঙ্গিতে পরিবর্তন এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রমিত বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতে এসব বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সহজ করতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।