পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশ শান্তি, সমন্বয় ও গঠনমূলক কূটনীতির পথে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তুরস্কে আয়োজিত আন্তালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর একটি স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা এবং আরও সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার জন্য মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি এই পরিবর্তনকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, ব্যাপক জনসমর্থন এবং কার্যকর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দেশের নীতিনির্ধারণে নতুন গতি এনেছে। তাঁর মতে, সক্রিয় সংসদ, প্রাণবন্ত নাগরিক সমাজ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম মিলেই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের আবাসস্থল হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এই বাস্তবতায় সংলাপ, আস্থা ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাধা অতিক্রম করে যৌথ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক জোটকে পুনরায় কার্যকর করা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈদেশিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে টেকসই সংযোগ ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় কূটনীতির বিকল্প নেই।
বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি প্রথমে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, এরপর আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করা, এবং একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা শুধু নিরাপত্তা রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাতেও অবদান রাখেন।
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও অন্যান্য কৌশলগত খাতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রেমিট্যান্স, পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখছেন। সরকার তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।