শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রস্তাবিত নীতিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, এআই চ্যাটবট ও অনলাইন গেমিংয়ে শিশুদের প্রবেশাধিকার বয়সভেদে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় কমিশনের একটি খসড়া নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’-এর আওতায় প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনো ভির্কুনেন বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন।
খসড়া নথি অনুযায়ী, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অনলাইন ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে কেবল নিরাপদ ও শিশুবান্ধব ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
১৩ ও ১৪ বছর বয়সীরা বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সীমিত যোগাযোগের সুবিধাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। আর ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপরও একাধিক বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা অনলাইন গেম ডাউনলোডের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে পারে—এমন নকশা বা ‘অ্যাডিকটিভ ডিজাইন’ পরিহার করতে হবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে। আইন বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তদারকি ফি নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এই অর্থ আইনি ও নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবার শিশুদের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন আসক্তি এবং ক্ষতিকর কনটেন্টে প্রবেশাধিকার নিয়ে অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকার ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচনা ও অনুমোদনের পর এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স