সৌদি আরবের মদিনা এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ১১০ মিলিয়ন টন (প্রায় ১১ কোটি টন) খনিজ আকরিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে এ তথ্য জানান সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান।
তিনি বলেন, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় গবেষণা চালিয়ে সেখানে প্রচুর বিরল খনিজ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের সন্ধানও মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতার চুক্তি হওয়ার কয়েক মাস পর এই তথ্য সামনে এলো।
গত ২২ জুলাই দুই দেশ এই চুক্তি করে। চুক্তির ফলে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো কাজ করার আরো সুযোগ পাবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু সহযোগিতাও বাড়বে।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফর করার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইউরেনিয়াম নিয়ে কাজ আরো গতি পায় বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ।
ওই সফরের সময় সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সরকারি খনি কম্পানি মাদেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানি এমপি ম্যাটারিয়ালস যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেয়।
দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ইউরেনিয়াম নিয়ে একটি সহযোগিতা কাঠামোও তৈরি হয়। এর আওতায় সৌদি আরবে একটি নতুন বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কারখানাটির ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ।
বাকি ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে মাদেনের হাতে। এমপি ম্যাটারিয়ালসও এই প্রকল্পের অংশীদার হবে। এমপি ম্যাটারিয়ালস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিরল খনিজের খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিচালনা করছে।
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত জাবাল সাইয়িদ এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুদ রয়েছে। এলাকাটি জেদ্দার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের বিরল খনিজের বড় মজুদের মধ্যে জাবাল সাইয়িদের অবস্থান চতুর্থ।
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল খনিজ রয়েছে, যার মধ্যে নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম রয়েছে। এলাকাটিতে প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম থাকারও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খনিজ ও ইউরেনিয়ামের মজুদ কাজে লাগাতে পারলে সৌদি আরব নিজস্ব পরমাণু জ্বালানি তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও এসব খনিজ রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবে আবিষ্কৃত বিরল খনিজের মোট মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের গবেষণায় আরও দুটি বড় খনিজ অনুসন্ধান এলাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় মোট প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন খনিজ সম্পদ থাকার ধারণা করা হচ্ছে।