৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনকৃত চারজন ভারতীয় নাগরিক আইনানুগভাবে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের দুই প্রতিনিধি এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার পবন কুমার ও শ্রী সুব্রত উপস্থিতিতে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তারা ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
প্রত্যাবর্তনকারী চারজন হলেন মোঃ দানেশ (২৮), পিতা মোঃ মন্নু শেখ, গ্রাম পাইকর, জেলা বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ; মোঃ সুইটি বিবি (৩৩), স্বামী মোঃ আজিজুল দেওয়ান; মোঃ ইমাম দেওয়ান (৬) ও মোঃ কোরবান শেখ (১৬), পিতা মোঃ আজিজুল দেওয়ান। সুইটি বিবি, ইমাম ও কোরবানের স্থায়ী ঠিকানা ধিতোরা, থানা মুরারই, জেলা বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
গত বছর ২৪ জুন দিল্লির ক্যানজোড় ১১ সেক্টরের কালীমাতা থানা পুলিশ তাদেরকে বাংলাদেশী নাগরিক সন্দেহে আটক করে। ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৬ জুন ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টায় বিএসএফ তাদের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে। বাংলাদেশে আসার পর তারা প্রথমে ঢাকার উত্তরায় ভাসমান অবস্থায় ছিলেন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।
২০ আগস্ট ২০২৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে আদালতের নির্দেশে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ জামিনে মুক্ত হন। এর মধ্যে দু’জনকে আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। বাকি চারজনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোঃ ফারুক হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। উভয় দেশের বিধি অনুসরণ করে ট্রাভেল পাস ইস্যুর পর তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিজিএফআই রাজশাহী শাখা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেছে। সাংবাদিকরা ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষাৎকার নিয়ে সংবাদ প্রচার করবেন। এ ঘটনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দু’দেশের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।