দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণসহ পাঁচটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
সরকারের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় উদ্যোগ হিসেবে নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে বড় পরিসরে সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে করার কথা রয়েছে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি—বাপেক্সকেও আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে পিএসসি ও বিডিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।