শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, পেশাগত কল্যাণ এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুমুখী পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া চলমান এবং যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিক্ষকেরা দিবসটি উদযাপনে সমবেত হয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের বড় অংশ সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্র ও দল পরিচালনার বাইরেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ‘সুরভী’-র মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন। তাঁর সেই ব্যক্তিগত জীবনের শিক্ষাবান্ধব চিন্তারই প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায়—যার প্রমাণ দেশের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব শিক্ষাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন।
তিনি দেশের শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক কিছু সংস্কারের কথা স্মরণ করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন ও প্রতিষ্ঠা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে সর্বাধিক প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের সময়েই বাস্তবায়িত হয়েছিল। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষায় এমপিওভুক্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে এনটিআরসিএ চালু এবং শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বিএনপির হাত ধরে।
বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিগত সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার যে অর্থ বছরের পর বছর বকেয়া পড়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বরাদ্দ হিসেবে ২ হাজার কোটি টাকা নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ন্যায্য পাওনা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষকদের সম্মাননা বৃদ্ধির বিষয়ে মুখপাত্র জানান, আগে জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রতি বছর মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে পারলেন এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের মধ্য থেকে মাত্র ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন। তাঁরই নির্দেশনায় এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত শতাধিক গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পেশাগত মানোন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে শিক্ষকদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজড টিচিং ম্যানুয়াল’ প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সাথে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা পদক্ষেপ হিসেবে সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যে দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী রূপরেখার আওতায় নতুন নতুন আধুনিক পাঠ্যবিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিখন), কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি। এই নতুন কারিকুলাম ও বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ার ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে একদিকে যেমন নতুন নতুন শিক্ষকের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিক্ষকদের নিজস্ব কর্মদক্ষতাও আরও বিকশিত হবে।