দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার অভিযোগে আলোচিত সেনা কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল ও প্রতিকার প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এরই মধ্যে বঞ্চিতদের পক্ষে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সময়কালে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত, অবসরপ্রাপ্ত বা পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়া বহু সেনা সদস্য নিজেদের অবিচারের শিকার বলে দাবি করে আসছেন। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনা সদর দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান জানায়।
কমিটির কাছে মোট ৭৩৩টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৪৫টি আবেদনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ১১৪ জন সেনা কর্মকর্তা, ১৯ জন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং ১২ জন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা।
সুপারিশে বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে এগোনো উচিত। যেসব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে পুনর্বহাল সম্ভব, তাদের পুনর্বহাল করা এবং যাদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবসম্মত নয়, তাদের জন্য আর্থিক সুবিধাসহ সম্মানজনক অবসরের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কমিটি গঠন বা পুনরায় যাচাইয়ের মাধ্যমে বিলম্ব সৃষ্টি না করে ইতোমধ্যে যাচাইকৃত তালিকা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাহিনীর শৃঙ্খলা, মনোবল এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বিষয়টি সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এদিকে বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের এই অবিচারের দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে। তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আর কোনোভাবে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করা উচিত নয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুনর্বহাল প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মানবিক। প্রকৃতভাবে যারা বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাদের মর্যাদা ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তারা মনে করেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের একটি স্পর্শকাতর ইস্যু এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর রয়েছে—সরকার কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করতে পারে।